মূল অংশে যান
সেরাব্র্যান্ডSheraBrand

সমস্যাটা

একটা পরিবর্তনের দুই পাড়ে দুই দল, যারা একে অপরের কাছে পৌঁছাতে পারে না।

এই পাতাটাই সেই যুক্তি, যার ওপর কোম্পানিটা দাঁড়িয়ে। কী কী নেই, সেটা এখানে ইচ্ছে করেই নির্দিষ্ট করে বলা হয়েছে — কারণ যতক্ষণ না অনুপস্থিত ছয়টা জিনিসের নাম বলা হয়, ততক্ষণ “ব্র্যান্ডের সঙ্গে ক্রিয়েটরের যোগাযোগ” কথাটা নিছক স্লোগান।

হিসাবের খাতা

একটা কার্যকর বাজারে ছয়টা জিনিস লাগে। একটাও এখানে নেই।

এর কোনোটাই অস্বাভাবিক কিছু নয়। পৃথিবীর যেকোনো পরিণত ক্রিয়েটর বাজারে ছয়টাই আছে, কেউ না কেউ দিচ্ছে। বাংলাদেশে সেগুলো নেই — আর তাই কাজগুলো “ইনবক্স প্লিজ”-এ এসে মারা যায়।

ক্রিয়েটরের কী দরকার, আজ কী আছে, আর কী নেই
যা দরকারআজ যা আছেযা নেই
খুঁজে পাওয়ার উপায়ইনবক্স আর ভাগ্যকোনো তালিকা নেই, ফিল্টার নেই। ঢাকার ব্র্যান্ড খুলনার বিশ্বাসযোগ্য কণ্ঠ খুঁজে পাওয়ার পথ নেই।
একটা দামযত টাকা চাইতে সাহস হয়রেট কার্ড নেই, ব্যান্ড নেই, তুলনার মাপকাঠি নেই। একই মানের দুজন ক্রিয়েটর পাঁচ গুণ আলাদা দাম বলেন।
একটা চুক্তিচ্যাটের একটা স্ক্রিনশটব্রিফ নেই, ডেলিভারেবলের তালিকা নেই, রিভিশনের সীমা নেই, ব্যবহারের অধিকার নেই — মানার বাধ্যবাধকতাও নেই।
দর্শক আসল, তার প্রমাণএকটা ফলোয়ার সংখ্যাকোনো যাচাই নেই। বাইরে থেকে কেনা ফলোয়ার আর আসল ফলোয়ার দেখতে হুবহু এক।
পেমেন্টএকটা প্রতিশ্রুতিএসক্রো নেই, তারিখ নেই, অভিযোগের জায়গা নেই। দেরিতে টাকা পাওয়া — বা না পাওয়া — এখানে স্বাভাবিক ঘটনা।
সত্যি বলার অধিকারকেউ বলে নাপণ্য ভালো নয় বললে ক্রিয়েটরকে বাঁচানোর কিছু নেই। তাই বেশিরভাগই আর সেটা বলেন না।

সমস্যাটা মানুষ নয়। সেতুটা না থাকাই সমস্যা।

এক পক্ষকে দোষ দেওয়া সহজ — ক্রিয়েটর বেশি চান, ব্র্যান্ড দেরিতে দেয়। কিন্তু যে অবকাঠামো তাঁদের হাতে আছে, তাতে দুজনেই যুক্তিসঙ্গত আচরণই করছেন। যাচাই না থাকলে আসল আর কেনা দর্শক আলাদা করা যায় না, তাই ব্র্যান্ড সবাইকেই কম দেয়। এসক্রো না থাকলে অচেনা কাউকে বিশ্বাস করা যায় না, তাই ক্রিয়েটর অগ্রিম চান আর কাজ হারান। অবকাঠামোটা ঠিক করলে খারাপ আচরণের বেশিরভাগই এমনিতেই চলে যায়।

ক্রিয়েটর যাঁরা এমনিতেই বিনা পয়সায় সৎ রিভিউ বানান, আর কেউ বললে এটাকেই পেশা বানাতেন।

ব্র্যান্ড যারা জানে একজন বিশ্বাসযোগ্য অচেনা মানুষ দামি মুখের চেয়ে ভালো বিক্রি করে, আর একশোজনের জন্য টাকা দিতে রাজি।

পরিবর্তনটা

বিশ্বাস প্রযোজকের হাত ছেড়ে পাশের মানুষটার কাছে গেছে।

পঞ্চাশ বছর ধরে এই দেশে প্ররোচনার মালিক ছিল সে-ই, যার প্রোডাকশনের সামর্থ্য ছিল: ক্যামেরা, জিঙ্গেল, পরিচিত মুখ, প্রাইম টাইমের স্লট। বিশ্বাস বানানো হতো, সেটা দামি ছিল, আর কাজ করত কারণ বিকল্প ছিল না। এখন বিকল্প আছে, আর সেটা সবার পকেটে।

৪২%

অনলাইন রিভিউকে এখনও ব্যক্তিগত পরামর্শের মতো বিশ্বাস করেন

২০২০ সালে ছিল ৭৯%, এক দশক আগে সর্বোচ্চ ৮৪%। নামহীন রিভিউ লেখা তার পুরনো বিশ্বাসযোগ্যতা হারাচ্ছে।

২০২৫ ·ব্রাইটলোকাল

১,০২৬ জন মার্কিন ভোক্তার অনলাইন প্যানেল, প্রকাশ করেছে এমন একটি কোম্পানি যারা রিভিউ ব্যবস্থাপনার সফটওয়্যার বিক্রি করে। বাংলাদেশে এমন কোনো জরিপ নেই।

৮৮%

চেনা মানুষের কথাকে অন্য যেকোনো মাধ্যমের চেয়ে বেশি বিশ্বাস করেন

গবেষণায় সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য উৎস, সব ধরনের পেইড ফরম্যাটের চেয়ে এগিয়ে। নিলসেন আরও দেখেছে, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও লাতিন আমেরিকার তুলনায় উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপে বিজ্ঞাপনে আস্থা ২০% পর্যন্ত কম।

২০২১ ·নিলসেন

৪০ হাজারেরও বেশি ভোক্তার বৈশ্বিক গবেষণা, এখন পাঁচ বছরের পুরনো, প্রকাশক একটি বিজ্ঞাপন-পরিমাপ কোম্পানি। বাংলাদেশ আলাদা করে দেখানো হয়নি।

+২৭%

এ দেশে টিকটকের বার্ষিক রিচ বৃদ্ধি

৫.৬২ কোটি প্রাপ্তবয়স্ক, যার ১.২ কোটিই যোগ হয়েছে এক বছরে — দেশে আর কোনো প্ল্যাটফর্ম এত নতুন রিচ পায়নি। কেনার সিদ্ধান্তটা এখন শর্ট ভিডিওতেই হয়।

অক্টোবর ২০২৫ ·ডেটারিপোর্টাল (কেপিওস · উই আর সোশ্যাল)

টিকটকের নিজস্ব বিজ্ঞাপন টুলের সম্ভাব্য রিচ, কেবল ১৮ বছরের বেশি বয়সীদের। ফেসবুকের সর্ববয়সী সংখ্যার সঙ্গে তুলনীয় নয়।

২০ লাখ

মোবাইল আর্থিক সেবার এজেন্ট

কুড়িগ্রামের একজন ক্রিয়েটরকে টাকা পাঠানো সমাধান হয়ে যাওয়া সমস্যা। এই মার্কেটপ্লেসের যে অবকাঠামো দরকার তা আছে; মার্কেটপ্লেসটাই নেই।

২০২৫ ·বাংলাদেশ ব্যাংক

বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব হিসাব। সঙ্গের ২৫ কোটি নিবন্ধিত এমএফএস অ্যাকাউন্ট নিবন্ধনের সংখ্যা — প্রায় ১৭.৬ কোটি জনসংখ্যার বিপরীতে এতে ব্যাপক পুনরাবৃত্তি আছে।

  • কেনার আগে খোঁজাটা হয়

    টাকা হাতে, পেজ খোলা — তবু থেমে গিয়ে আরেকটা ট্যাব খুলে পণ্যের নাম আর “রিভিউ” লেখা হয়। তথ্য নয়, খোঁজা হয় একজন মানুষ, যে টাকাটা আগেই খরচ করেছে।

  • অ্যামেচার একটা যোগ্যতা হয়ে গেছে

    সাধারণ আলো, সাধারণ ঘর, সাধারণ বাংলা। অগোছালো ভাবটা ক্ষমা করার মতো ত্রুটি নয়; এটাই প্রমাণ যে কথাগুলো কেউ কিনে নেয়নি। কখন যেন “অ্যামেচার” আর গালি থাকেনি।

  • পালিশ এখন সতর্কবার্তা

    একই দর্শক এক স্ক্রলে পালিশ করা আর সৎ জিনিস পাশাপাশি দেখেছে এবং শিখেছে কোনটা সত্যি বলছে। নিখুঁত আলোয় বানানো প্রোডাক্ট ফিল্ম খারাপ বলে ব্যর্থ হয় না — স্পষ্টভাবে টাকা দিয়ে বানানো বলে ব্যর্থ হয়।

  • ছোট দর্শক আসলে ছোট নয়

    দুই হাজার মানুষ যদি কেনার আগে আপনাকে জিজ্ঞেস করে, তাঁদের দাম দুই লাখ উদাসীন দর্শকের চেয়ে বেশি। বর্তমান বাজারের সব প্রণোদনা এটাকে উল্টো দাম দেয়, কারণ ফলোয়ার সংখ্যাই একমাত্র সংখ্যা যা সবাই বলতে পারে।

সাদা অ্যাপ্রন পরে বার চার্ট দেখানো লোকটাকে কেউ কখনো বিশ্বাস করেনি। মানুষ বিশ্বাস করে পাশের বাসার সেই প্রতিবেশীকে, যে জিনিসটা আগেই কিনেছে।

বিজ্ঞাপনের জন্য এটা অস্বস্তিকর, আর আমাদের জন্য এটাই পুরো সুযোগ।

কেন টিকে আছে

সেতুটা কখনো তৈরি না হওয়ার ছয়টা কারণ।

আলাদা আলাদাভাবে এর কোনোটাই কঠিন সমস্যা নয়। কঠিন এই কারণে যে এগুলো একসঙ্গে ছাড়া কাজ করে না — এসক্রো ছাড়া যাচাই থাকলেও ক্রিয়েটর টাকা পান না, আর যাচাই ছাড়া এসক্রো শুধু প্রতারককেই দ্রুত টাকা দেয়।

  1. ০১

    দুই পক্ষ একে অপরকে দেখতেই পায় না

    একটা ব্র্যান্ড হয়তো তিনজন ক্রিয়েটরের নাম বলতে পারবে, যাদের কথা সে শুনেছে। কিন্তু এক ক্যাটাগরিতে চল্লিশজনের নাম — অঞ্চল আর ভাষা অনুযায়ী বাছাই, দর্শক সত্যিই কেনে কি না সেই হিসাবে সাজানো — সেই তালিকাটা কোথাও নেই। তাই ক্যাম্পেইন ঘুরেফিরে পরিচিত মুখের কাছেই যায়।

  2. ০২

    বিশ্বাসের কোনো দাম নির্ধারিত নেই

    ফলোয়ার সংখ্যাই একমাত্র সংখ্যা যা সবাই বলতে পারে, তাই সেটাই দাম হয়ে দাঁড়ায় — যা পুরোপুরি উল্টো। দুই হাজার মানুষ যদি আপনাকে বিশ্বাস করে, তাদের দাম দুই লাখ নিষ্ক্রিয় ফলোয়ারের চেয়ে বেশি। আজ এই কথাটা বলার মতো কোনো ব্যবস্থাই নেই।

  3. ০৩

    আসল কাজটা হলো টাকা আদায় করা

    যে কোনো ক্রিয়েটরকে জিজ্ঞেস করুন কঠিন অংশ কোনটা — কেউ বলবেন না ভিডিও বানানো। বলবেন চার সপ্তাহ ধরে তাগাদা দেওয়া, অগ্রিম চাইতে গিয়ে কাজ হারানো, ব্র্যান্ডের হঠাৎ চুপ হয়ে যাওয়া। পেমেন্টের ঝুঁকিটাই এই পেশার সবচেয়ে বড় কর, আর সেটা পুরোটাই বহন করেন সবচেয়ে কম ক্ষমতার মানুষটি।

  4. ০৪

    সততার কোনো সুরক্ষা নেই

    কোনো পণ্য হতাশ করেছে বললে ক্রিয়েটরের টাকা, সম্পর্ক আর পরের কাজ — তিনটাই ঝুঁকিতে পড়ে। তাই বাজারটা ধীরে ধীরে শুধু প্রশংসার দিকে হেলে যায়। আর দর্শক, যাঁরা বোকা নন, সব প্রশংসাকেই ছাড় দিতে শুরু করেন। সবাই হারে — যে ব্র্যান্ড টাকা দিচ্ছে, সেও।

  5. ০৫

    ভুয়া জিনিস সস্তা আর ধরা কঠিন

    কেনা ফলোয়ার, বট কমেন্ট আর না-খোলা পণ্যের রিভিউ — খরচ প্রায় শূন্য, আর বাইরে থেকে দেখতে হুবহু আসলের মতো। যাচাই না থাকলে সৎ ক্রিয়েটরকে দামের প্রতিযোগিতায় ভুয়ার সঙ্গে লড়তে হয়, এবং হারতে হয়।

  6. ০৬

    চল্লিশটা আলাদা কথোপকথন কেউ সামলাতে পারে না

    উপরের সব সমস্যা একজন ক্রিয়েটরের ক্ষেত্রে সামলানো গেলেও চল্লিশজনের ক্ষেত্রে যায় না। চল্লিশটা ইনবক্সে ব্রিফ দেওয়া, তাগাদা দেওয়া, অনুমোদন করা, বিল নেওয়া আর রিপোর্ট বানানো — এটা পুরোদস্তুর একটা চাকরি, যার জন্য কেউ বাজেট রাখেনি। তাই ক্যাম্পেইন ছোটই থেকে যায়।

Khadi clothing shops in Kandirpar, Comilla, garments hanging across the shopfronts.

ছবি: কুমিল্লার কান্দিরপাড়ে খাদি কাপড়ের দোকান। এই তালিকার প্রতিটি ব্যর্থতার ভার সবচেয়ে বেশি পড়ে লেনদেনের সবচেয়ে কম ক্ষমতার মানুষটির ওপর।

দাম

সেতুটা না থাকার আসল দাম কত, আর সেটা কে দেয়।

দামটা বিমূর্ত কিছু নয়। প্রতি সপ্তাহে নির্দিষ্ট মানুষের ওপর নির্দিষ্টভাবে পড়ে — আর প্রায় পুরোটাই পড়ে লেনদেনের যে পাশে কোনো দরকষাকষির ক্ষমতা নেই, সেই পাশে।

যাচাইকৃত

তালিকার প্রতিটি দর্শক

এনগেজমেন্টের মান, ফলোয়ারের গঠন আর অ্যাকাউন্টের ইতিহাস — শুরুতে দেখা হয়, পরেও আবার দেখা হয়।

আমাদের প্রতিশ্রুতি

অনুমোদন

প্রকাশের আগে সবকিছু

তথ্য, ফরম্যাট আর দাবির নিরাপত্তা আপনি ঠিক করতে পারেন। মতামতটা পারেন না।

আমাদের প্রতিশ্রুতি

পুনর্ব্যবহার

রাইটস ঠিক থাকলে কনটেন্ট

ব্যবহারের শর্ত ব্রিফেই ঠিক হয়, তাই সেরা কনটেন্টগুলো পেইড অ্যাডেও চালানো যায়।

আমাদের প্রতিশ্রুতি

মাপা

ভিউ, ক্লিক, খরচ প্রতি ফলাফল

ক্রিয়েটর অনুযায়ী, রপ্তানিযোগ্য — যাতে খরচের হিসাব যে কাউকে দেখানো যায়।

আমাদের প্রতিশ্রুতি

যে করটা কেউ হিসাবেই ধরেনি

যে ক্রিয়েটর বছরে চারটা ব্র্যান্ড ডিল করেন আর দুটোতে দেরিতে টাকা পান, তিনি ব্যবসা করছেন না — নিজের চেয়ে বড় কোম্পানিকে জামানতহীন ঋণ দিচ্ছেন। আর যে ব্র্যান্ড একবার কেনা ফলোয়ারে ঠকে, সে চ্যানেলটা পরীক্ষা করাই ছেড়ে দেয় এবং ফিরে যায় সেই মনোযোগ কেনায়, যেটা কাজ করে না বলে সে নিজেই জানে।

আর দর্শক — যাঁদের সঙ্গে কেউ দরকষাকষিই করে না — চুপচাপ শিখে যান যে এখানকার রিভিউ বিক্রি হয়। আসল ক্ষতিটা এটাই: একটা খারাপ ক্যাম্পেইন নয়, বরং বাণিজ্যে যে একটা জিনিস এখনো কাজ করে, তার ধীরে ধীরে মূল্যহীন হয়ে যাওয়া।

আর ঠিক এই কারণেই আমাদের লেখা প্রথম নিয়মটা বৃদ্ধি নিয়ে নয়, সততা নিয়ে।

A fast-food street shop near Mirpur 10 in Dhaka, food laid out along the counter for customers.

আমাদের সংখ্যা

এই সাইটের প্রতিটি সংখ্যা, আর তার সমস্যাটা কী।

এই অবস্থানে থাকা বেশিরভাগ কোম্পানি ক্রিয়েটর অর্থনীতির আকার নিয়ে একটা বিশাল সংখ্যা দিয়ে শুরু করে আর আশা করে কেউ জিজ্ঞেস করবে না সেটা কোথা থেকে এল। আমরা যাচাই করেছি, আর সৎ উত্তরটা হলো — বাংলাদেশের জন্য ওই সংখ্যাটা নির্ভরযোগ্যভাবে নেই। দেশের ই-কমার্স বাজারের প্রকাশিত হিসাবগুলো একে অপরের চেয়ে প্রায় ছয় গুণ আলাদা, কোনোটিই পদ্ধতি প্রকাশ করে না, আর সবগুলোই টাকা দিয়ে কেনা প্রতিবেদন।

হিসাবটা দেখাতে না পারলে সংখ্যাটা আমরা ছাপি না।

আমাদের গোটা পণ্যটাই বিশ্বাসযোগ্যতা। যে প্ল্যাটফর্ম ভুয়া রিভিউ ঠেকায়, সে নিজের দাবিতে ঢিলেঢালা হতে পারে না — আর নিজের মার্কেটিংয়ে আমরাই প্রথম মিথ্যাবাদী হব না। তাই এই সাইটে কোনো সংখ্যা তখনই আসে, যখন সেটা এই তিনটির একটি:

  • যে প্রতিশ্রুতিতে আমরা চলি — ফলোয়ারের কোনো সীমা নেই, একশো শতাংশ ডিসক্লোজার, নির্দিষ্ট অনুমোদনের সময়সীমা, একটা বিল। এগুলো সিদ্ধান্ত, তাই পড়ার দিনেই সত্যি, আর এগুলোর জন্য আমাদের জবাবদিহি করানো যায়।
  • যা আমরা নিজেরা মেপেছি — সময়মতো পেমেন্টের হার, জালিয়াতির কারণে বাতিল অ্যাকাউন্ট, ডিসক্লোজার মানার হার, ক্রিয়েটরদের মধ্যম আয়। বছরে দুবার ইন্টেগ্রিটি রিপোর্টে প্রকাশ হবে — যেগুলো ছাপতে আমাদের ভালো লাগবে না, সেগুলোসহ।
  • প্রকাশিত তৃতীয় পক্ষের সংখ্যা, সীমাবদ্ধতাসহ — বিটিআরসি, বাংলাদেশ ব্যাংক, পরিসংখ্যান ব্যুরো, ডেটারিপোর্টাল, ই-ক্যাব, নিলসেন, ব্রাইটলোকাল। প্রতিটির সঙ্গে প্রকাশক, সময়কাল আর সীমাবদ্ধতা লেখা থাকে — কারণ বিজ্ঞাপন টুলের রিচ ব্যবহারকারীর সংখ্যা নয়, আর মার্কিন রিভিউ জরিপ বাংলাদেশি জরিপ নয়। পাদটীকাটা দাবির অংশ, দাবির নিচে লুকানো কোনো ছাড় নয়।

খেয়াল করবেন, উৎসগুলো মাঝে মাঝে একমত হয় না — বিটিআরসি ১৩.৫৯ কোটি ইন্টারনেট সংযোগ গোনে, আর ডেটারিপোর্টাল ৮.২৮ কোটি ব্যবহারকারীর হিসাব দেয়; কারণ একটি সক্রিয় সিম গোনে, অন্যটি মানুষ। যেটা আমাদের পক্ষে যায় সেটা চুপচাপ বেছে নেওয়ার চেয়ে এই অমিলটা দেখানোই ভালো মনে করেছি। কোনো দাবির পেছনের যুক্তি জানতে চাইলে সরাসরি জিজ্ঞেস করুন — সোজা উত্তর পাবেন।

সব উৎস আর যা আমরা ছাপি না, দেখুন

আমরা বিশ্বাস তৈরি করি না। যাঁদের কাছে সেটা আগে থেকেই আছে, তাঁদের খুঁজে বের করি — আর নিশ্চিত করি তাঁরা তার দাম পান।

আমরা কী করি

ফাঁকটাই যুক্তি। মার্কেটপ্লেসটাই উত্তর।

রোগনির্ণয়টা ঠিক হলে সমাধান আরও বিজ্ঞাপন নয় — সমাধান হলো অনুপস্থিত অবকাঠামো: খুঁজে পাওয়া, ব্রিফ, যাচাই, অনুমোদন, পেমেন্ট আর প্রমাণ — এক জায়গায়।